<p style="text-align: justify;"><img class="image-left" src="https://static.vikaspedia.in/media_vikaspedia/bn/images/health/9aa9cd9b09be9b6987-99c9bf99c9cd99e9be9b89cd9af200c-9aa9cd9b09b69cd9a89be9ac9b29c0/Alcohol.jpg" /></p> <p style="text-align: justify;">মদ্যপানের কারণে মানসিক ও শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হওয়া সত্বেও যখন কোনো ব্যক্তি মদ্যপান চালিয়ে যেতে থাকেন তখন বলা হয় ঐ ব্যক্তিটি মদ্যপানে আসক্ত। কোনো ব্যক্তির মদ্যপানের অভ্যেস যখন সমস্যার সৃষ্টি করে তখন ঐ মদ্যপান ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।</p> <p class="font-size12" style="text-align: justify;">এই সমস্যাগুলো অ্যালকোহল পয়জনিং, লিভার সিরোসিস, কাজে অক্ষমতা, হিংসা ও ভাংচুর প্রবণতার মত বহু প্রকারের শারীরিক, মানসিক ও আর্থ-সামাজিক ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি করে।</p> <p class="font-size12">মদ্যপানে আসক্তি কোনো লিঙ্গনির্ভর রোগ নয়।</p> <h3>উপসর্গ – লক্ষন</h3> <p style="text-align: justify;">যাঁরা মদ্যপানে আসক্ত তাঁরা সাধারণত :</p> <ul> <li>মদ্যপান চালিয়ে যান, এমনকি এর কুপ্রভাব আছে জেনেও</li> <li>এক একা মদ্যমদ্যপান করেন</li> <li>মদ্যপান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে প্রতিকূল হয়ে ওঠেন</li> <li>মদ্যপানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন না</li> <li>মদ্যপানের নানাবিধ যুক্তি খাড়া করেন</li> <li>মদ্যপানের কারণে কাজ বা পড়াশুনোয় ফাঁকি</li> <li>মদ্যপানের কারণে বিভিন্ন কাজকর্মে অংশ নিতে না পারা</li> <li>দিনভর নেশায় মজে থাকতে মদ্যপান</li> <li>কেউ মদ্যপানে বাধা দিলে হিংস্র হয়ে ওঠা</li> </ul> <p style="text-align: justify;">সঙ্গে, বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। স্মৃতিশক্তি লোপ পায়, যাকে 'ব্ল্যাক আউট' বলে। যকৃতের সমস্যা ও হজম ক্ষমতা হ্রাসের কারণে মদ্যপায়ীদের খিদে সাধারণত কম হয় এবং প্রায়শই বুক জ্বালা ও বমিবমিভাব দেখা যায়।</p> <p style="text-align: justify;">সতর্কতার লক্ষণের মধ্যে পড়ে ''বেসামাল কথাবার্তা ও মদের দুর্গন্ধ''</p> <h3>রোগ নির্ণয়</h3> <p class="font-size12" style="text-align: justify;">বদমেজাজ, বিরক্তি ও অস্থিরতা হল ''ড্রাই ড্রাঙ্ক সিন্ড্রম''-র লক্ষণ।</p> <p style="text-align: justify;">চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষার সঙ্গে সঙ্গে পারিবারিক ইতিহাস জানতে পারেন। ডাক্তার জিজ্ঞেস করতে পারেন পরিবারের অন্য কেউ মদ্যপান করেন বা করতেন কিনা।</p> <h3>পরিচালনা <strong> </strong></h3> <p style="text-align: justify;">যেসব পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যেতে পারে একজন মদ্যপ কিনা :</p> <ul> <li>রক্তে এলকোহলের মাত্রা</li> <li>সম্পূর্ণ রক্ত গণনা</li> <li>যকৃতের সক্রিয়তা পরীক্ষা</li> <li>রক্তে ম্যাগনেসিয়ামের পরীক্ষা</li> </ul> <p style="text-align: justify;">মদ্যপানের আসক্তি নির্ভর করছে একজন ব্যক্তি কতটা পরিমান মদ্যপান করেন তার উপর। পরবর্তী চিকিৎসার বিকল্পগুলোর মধ্যে পড়ে :</p> <p style="text-align: justify;"><strong>ডিটক্সিকেশন -</strong> এক্ষেত্রে, নিরাপদভাবে মদ্যপান ছাড়ার জন্য একজন ডাক্তার বা চিকিৎসকের সহায়তার প্রয়োজন। এক্ষেত্রে একটু একটু করে মদ্যপানের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয় বা ওষুধ প্রয়োগ করা হয় এবং প্রত্যাহার-লক্ষণগুলোকে কমানো হয়।</p> <p style="text-align: justify;"><strong>কাউন্সেলিং-</strong> এর মধ্যে পড়ে কগনেটিভ বিহেভেরাল থেরাপি (সি বি টি)-র মত সেল্ফ-হেল্প গ্রুপ ও টকিং থেরাপি।</p> <p style="text-align: justify;"><strong>ওষুধ প্রয়োগ-</strong> দু'ধরণের ওষুধ যা কোনো ব্যক্তির মদ্যপানের অভ্যাসকে বন্ধ করতে পারে। প্রথম ধরণের ওষুধ প্রত্যাহার-লক্ষণগুলোকে কমায়।</p> <p style="text-align: justify;"><span style="text-align: justify;">সবচেয়ে পরিচিত ওষুধ হল ক্লডিয়াজাপোক্সাইড (লিব্রিয়াম)। অন্য একপ্রকারের ওষুধ যা মদ্যপানের ইচ্ছাকে কমাতে পারে। সাধারণ ওষুধগুলোর মধ্যে পড়ে একামপ্রোজেট ও ন্যালট্রেকক্সন। এই ওষুধগুলো গ্রহণের নির্দিষ্ট মাত্রা রয়েছে ও সাধারণত ৬-১২ মাস পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।</span></p> <p style="text-align: justify;"> </p> <p style="text-align: left;"><strong>তথ্যসূত্র</strong><strong>-</strong><strong> </strong><strong><em>জাতীয় স্বাস্থ্য প্রবেশদ্বার</em></strong></p>