একটা সময় ধারনা ছিল সাধারণত মেয়েদের হার্ট অ্যাটাক হয়না। কিন্তু সাম্প্রতিক রিপোর্ট এবং ডেটা থেকে জানা যাচ্ছে খুব কম বয়সী মেয়েদেরও হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে। নিম্ন এবং মধ্যবিত্তদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে মৃত্যু হয় চারজনের। তবে লাইফস্টাইলের পরিবর্তন করলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো রোগকে আশি শতাংশ ক্ষেত্রে প্রতিরোধ করা সম্ভব। সম্পর্ক খুব তাড়াতাড়ি ভেঙে যাচ্ছে, চাকরি-বাকরির নিশ্চয়তা নেই তাই অসম্ভব চাপ নিতে হয় মেয়েদের। বিভিন্ন কারণে মেয়েদের হরমোনের ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাড়ছে বন্ধ্যাত্ব। প্রচুর মহিলা আজকাল ধূমপানও করেন। ফলে মেয়েদেরও হার্টের অসুখের আশঙ্কাও অনেকটাই বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কি বলছে? জেটগতির যুগেও কি অকালে হার্ট অ্যাটাক থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব? হ্যাঁ, সম্ভব। বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। আসলে দরকার লাইফস্টাইলে পরিবর্তন। পাশাপাশি রোগকেও চিনতে শিখতে হবে। কীভাবে? দেখে নেওয়া যাক কী বলছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। এই প্রচন্ড ব্যাস্ত জীবনে, মেটাভার্সের দুনিয়ায় কি অকালে হার্ট অ্যাটাক থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব? হ্যাঁ, সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র রিপোর্ট কিন্তু তাই বলছে। আসলে দরকার লাইফস্টাইলে পরিবর্তন। পাশাপাশি রোগকেও চিনতে শিখতে হবে। কীভাবে? দেখে নেওয়া যাক কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (WHO) বা হু-র দেওয়া তথ্য বলছে, নিম্ন এবং মধ্যবিত্তদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো কার্ডিওভাসকুলার ডিজিসে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে মৃত্যু হয় চারজনের। এবং এই রোগে পুরুষ এবং মহিলা, সমানভাবে আক্রান্ত হন দুপক্ষই। তবে কম বয়সে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো রোগকে আশি শতাংশ ক্ষেত্রে প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগের লক্ষণ জানলে তা থেকে বাঁচার রাস্তাও হয়ে যায় অনেকটাই আসান। একটা সময় পর্যন্ত মনে করা হত, মেয়েদের হার্ট অ্যাটাক হয় না সাধারণত। কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতে বদলে গিয়েছে সেই ধারণা৷ এখন বহু কম বয়সি মহিলাও হৃদরোগে আক্রান্ত হন৷ মেয়েদের হার্ট অ্যাটাকের কারন স্ত্রী হরমোনের প্রভাবেই সাধারণত মেয়েদের হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে। কিন্তু ইদানীং দুনিয়া বদলেছে। বিশেষ করে মেয়েদের জীবনে তৈরি হয়েছে নানা ধরনের অনিশ্চয়তা। সম্পর্ক খুব তাড়াতাড়ি ভেঙে যাচ্ছে, চাকরিবাকরির নিশ্চয়তাও সেই অর্থে নেই। ঘর-বাইরে দুটো দিকই একজন মহিলা অনায়াসে সামলাতে পারেন, এমন একটা বিশ্বাস সমাজে প্রচলিত আছে এবং সেটা মেনে চলতে গিয়ে অসম্ভব চাপ নিতে হয় মেয়েদের। তাঁরা নিজেদের খেয়াল রাখার সময়ই পান না। এই সব নানা কারণে মেয়েদের হরমোনের ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাড়ছে বন্ধ্যাত্ব। প্রচুর মহিলা আজকাল ধূমপানও করেন। ফলে হার্টের অসুখের আশঙ্কাও অনেকটাই বেড়েছে। যদি কারও পরিবারে ‘করোনারি আর্টারি’ বা ‘ইসকেমিক হার্ট ডিজ়িজ়’-এর ইতিহাস থাকে এবং যদি বুকে কোনও সমস্যা হচ্ছে, রাতে ঘুম ভেঙে যাচ্ছে অস্বস্তিতে, আবার খানিক বাদে সেটা এমনিতেই চলে যাচ্ছে, হাত-পা ফুলছে, নিশ্বাসের কষ্টের মতো কোনও একটি সমস্যাও হচ্ছে, তা হলে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। হার্টের স্বাস্থ্য কিভাবে ভালো রাখবেন? ময়দা এবং ভাতের (সাদা চালের উপর) অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন না সরল শ্বেতসারের বদলে আপনার রোজের খাদ্যতালিকায় রাখুন লাল চালের ভাত (ব্রাউন রাইস), বা ব্রাউন ব্রেড। এতে শরীরে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে, ফাইবারের জোগানও বৃদ্ধি পায়। প্রতিদিন ব্রেকফাস্টে ওটমিল খান ওটমিলে উপস্থিত সলিউবল ফাইবার ও বিটা গ্লুকন নিয়ন্ত্রণে রাখে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল। ওটের সঙ্গে সঙ্গে কলা, আপেল, আঙুল, আখরোট, আমন্ডের মতো ফল ও বাদাম খেতে পারলে আরও ভালো হয়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যে কোনও ‘ভিটামিন-সি’ সমৃদ্ধ ফলে থাকে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, তার ফলে ট্রাইগ্লিসারাইড ও ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে, ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। খাদ্যতালিকায় রাখুন ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার সামুদ্রিক মাছ ও ফ্ল্যাক্সসিড ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধ ও আপনার হার্ট সুস্থ রাখতে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। ব্যায়াম করুন, স্ট্রেস রাখুন নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন ব্যায়াম করুন। স্ট্রেসের মাত্রা কখনওই বাড়তে দেবেন না। দরকারে মনোবিদের পরামর্শ নিতে পারেন। ওজন যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে সব সময়ে। ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন ধূমপান ও মদ্যপান শুধু হার্ট নয়, আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের পক্ষেই খুব একটা ভালো নয়। তবে রেড ওয়াইনের ‘সাপোনিন’ কোলেস্টেরল কমাতে কার্যকর। কিন্তু কী থেকে বুঝবেন আপনি হৃদরোগে আক্রান্ত? হার্ট অ্যাটাকের ৮টি লক্ষণ চিকিত্সকদের মতে, বুকে ব্যাথা সাধারণত বুকের মাঝখানে প্রচন্ড ব্যাথা হবে। সেই ব্যাথা এক সময় চোয়ালে, হাতে এবং বাম কাঁধে ছড়িয়ে পড়বে। শ্বাসকষ্ট শ্বাসকষ্ট এবং দম ফুরিয়ে ফুরিয়ে যাওয়ার মতো কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা কিন্তু খারাপ লক্ষণ। মূলত হৃদরোগ থেকে ফুস্ফুসে জল জমা সহ বিভিন্ন জটিলতার কারনে ঠাণ্ডা ছাড়াও শ্বাস কষ্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অল্পেতেই দম ফুরিয়ে যাওয়া বা মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নেওয়াও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। ঘাম হওয়া হঠাৎ করে অতিরিক্ত ঘাম হওয়াও হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ। ডায়াবিটিক রোগীদের ক্ষেত্রে বুকে ব্যাথা হয়া ছাড়াও অতিরিক্ত ঘাম, বুক ধড়ফড় হঠাৎ শরীর খারাপ লাগতে শুরু করাও কিন্তু হৃদরোগের লক্ষণ। কাশি যদি দীর্ঘ দিন কাশির সমস্যা থাকে এবং তার সাথে কফ তাহলে বুঝতে হবে হার্ট ঠিকঠাক কাজ করছে না। বা ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কাশি সবসময় হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ নয়। তবে কফের সাথে নিয়মিত রক্ত বের হলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কিন্তু যথেষ্ট। অজ্ঞান হয়ে যাওয়া যদি হঠাৎ করেই অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন তাহলে বুঝবেন হার্টের সমস্যা রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ক্লান্তি কিছুক্ষণ কাজ করার পর বা সিঁড়ি দিয়ে একটু উঠলেই যদি বুক ধড়ফড় করে বা ক্লান্ত হয়ে পড়েন তবে দেরী না করে যোগাযোগ করুন চিকিৎসকের সঙ্গে। বিশেষ করে মহিলাদের হার্টের সমস্যার এটি প্রধান লক্ষণ। মাথা ব্যাথা যদি প্রায়ই মাথা ব্যাথা করে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মাথা ব্যাথা হার্ট অ্যাটাকের প্রধান লক্ষণ। পালস রেইট যদি খুব বেশী নার্ভাস থাকেন বা আপনার পালস রেট ওঠা নামা করছে কোন কারন ছাড়াই বুঝবেন আপনার হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা আছে। দ্রুত পরামর্শ নিন চিকিৎসকের। হৃদরোগের সমস্যা থেকে বাঁচতে কি করবেন? পরিমিত আহার বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ স্বাভাবিক হৃদয়ের জন্য পরিমিত আহার অত্যন্ত গুরুত্ব বিষয়। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে প্রচুর পরিমান মরশুমি ফল, শাক সব্জি, শস্য জাতীয় খাবার, মাছ এবং মাংস। তবে কমিয়ে ফেলতে হবে মাত্রাতিরিক্ত চিনি, নুন ও ফ্যাট জাতীয় খাবার খাওয়া। নিয়মিত স্বাস্থ্যচর্চা প্রতিদিন কমপক্ষে তিরিশ মিনিট শরীর চর্চা সুস্থ হার্টের অন্যতম উপায়। তিরিশ মিনিট থেকে ধীরে ধীরে শরীর চর্চার সময় বাড়িয়ে একঘণ্টা করতে হবে। আর তাতেই ধরে রাখা সম্ভব সুস্থ শরীর। এড়িয়ে চলুন ধুমপান যে কোনও রূপেই তামাক সেবন ডেকে আনে অকাল হৃদসমস্যাকে। তাই যে কোনও প্রকারেই এড়িয়ে চলুন সিগারেট, সিগার, বা গুটখার মতো তামাক জাতীয় দ্রব্য। সমীক্ষায় দেখা গেছে কোনও ব্যক্তি তামাক সেবন বন্ধ করার পর থেকেই কমতে শুরু করে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো রিস্ক ফ্যাক্টরগুলি। এছাড়াও ব্লাড প্রেসার, ব্লাড সুগার ও ব্লাড কোলেস্টরলের মতো রোগ সম্পর্কে আগেভাগেই সচেতন হলে মিলবে হৃদয়যন্ত্রণা থেকে মুক্তি। তবে নিজেকে ভালো রাখুন। হৃদয়কে ভালো রাখতে হলে শিশুদের সাথে সময় কাটান। প্রকৃতিকে দেখুন উপভোগ করুন। সকাল বেলার সূর্যালোক শরীরে নিন কমপক্ষে দশ থেকে পনেরো মিনিট। তবে দুপুর বারোটার পরে একদম নয়। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। উপভোগ করুন জীবনকে। লেখকঃ রাজীব দত্ত (প্রাবন্ধিক)। তথ্য সুত্রঃ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে লিখিত। ‘হার্টের অসুখ এবং প্রতিকার’।