জীবনের জন্য লবণের গুরুত্ব অপরিসীম। লবণে আছে বিপুল পরিমাণ সোডিয়াম। সোডিয়াম শরীরের জন্য দরকারি ইলেক্ট্রোলাইট। জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ইলেক্ট্রোলাইট, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম অপরিশোধিত লবনে পাওয়া যায়। শরীরে লবণ বেড়ে যাওয়া বা লবণের পরিমাণ কমে যাওয়া দুটিই দেহের জন্য বিপদজনক। তাই লবণ খাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্ক থাকাই উচিৎ। লবণ রান্নার সুপরিচিত এবং অপরিহার্য একটি উপাদান। খাবার পাতে হোক অথবা রান্নায় লবণ খাবারের স্বাদ বদলে দেয়। এটি কাঁচা খেলে যেমন অপকার ঠিক তেমনি এটি একদম না খেলেও ক্ষতি। লবণ খাওয়ার উপকার ও অপকার দুটিই রয়েছে। লিভার, কিডনি, হার্টের মতো শরীরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশের ক্রিয়াকলাপ লবণের উপর নির্ভর করে। লবণে যে সমস্ত মিনারেলস রয়েছে এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে লবণ ক্যালশিয়াম- লবণে রয়েছে ক্যালশিয়াম। যা শক্তিশালী হাড় তৈরি করতে সাহায্য করে । ক্যালশিয়াম ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ থেকে রক্ষা করতে পারে । আয়রন – লবণে রয়েছে আয়রন। এই আয়রন রক্তাল্পতা কমানোতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে । আয়রন শরীরে হিমোগ্লোবিন বাড়ায়, দেহের ক্লান্তি হ্রাস করে, পেশি শক্তিশালী এবং উন্নত করে । পটাশিয়াম- লবণে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ সঠিকভাবে বজায় রাখতে সাহায্য করে। সোডিয়াম- লবণে সোডিয়ামের ভুমিকা সবচেয়ে বেশি। সোডিয়াম শরীরে রক্তচাপ কমায়, স্ট্রোকের সম্ভাবনা রোধ করে, দৃষ্টিশক্তি ভাল করে। শুধু তাই নয় সোডিয়াম হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি হ্রাস করে । সেলেনিয়াম- লবণে রয়েছে সেলেনিয়াম। সেলেনিয়াম থাইরয়েড কার্জকলাপে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা নেয়। ফ্লুরাইড- ফ্লুরাইড দাঁতের এনামেল সঠিক রেখে ক্যাভিটি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে । জিঙ্ক- লবণে রয়েছে জিঙ্ক। এই জিঙ্ক বয়স জনিত রোগগুলির ঝুঁকি হ্রাস করে। জিঙ্ক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে কার্যকরী। ম্যাগনেশিয়াম- লবণে থাকা ম্যাগনেশিয়াম হাড় গঠনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় । ম্যাগনেশিয়াম মাইগ্রেনের মাথাব্যাথা রোধ করতে সাহায্য করে। কপার- কপার একটি উল্লেখযোগ্য মিনারেল। লবণে থাকা কপারে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য থাকে। আমাদের শরীরের হাড়ের ঘনত্বকে রক্ষা করে কপার । ম্যাঙ্গানিজ- লবণে থাকা ম্যাঙ্গানিজ ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রন করতে সহায়ক। লবণ খাওয়ার অপকারিতা শরীর ডিহাইড্রেশন রাখেঃ শরীরকে হাইড্রেট রাখা খুব জরুরী। কিন্তু খাবার পাতে অতিরিক্ত পরিমাণ লবণ শরীরকে ডিহাইড্রেশন করে তোলে। তাই আপনার খাদ্য থেকে এই উপাদানটিকে বাদ রাখাই ভালো ডায়াবেটিস হওয়ার সমস্যাঃ লবণের কারনে ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায়। তাই যাদের ব্লাড প্রেসারের সমস্যা আছে তাদের পাতে নুন বর্জন করাই ভালো। কিডনির সমস্যাঃ অত্যাধিক পরিমাণ লবণ খাওয়ার জন্য হৃদ চাপ বেড়ে যায়। যার ফলে কিডনি থেকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম নিঃসৃত হয় এবং কিডনিতে পাথর সৃষ্টি হয়। কিডনির সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য লবণ খাওয়া বন্ধ করা অবশ্যই জরুরী। স্ট্রোক হওয়ার প্রবণতাঃ বাইরের খাবার যেমন জাঙ্ক ফুড বা স্ট্রিট ফুডগুলিতে বেশি করে লবণের পরিমাণ থাকে। এই ধরনের খাবার আমাদের মারাত্মক ক্ষতি করে দিতে পারে। কিন্তু আমরা এই ধরনের খাবার খেতে পছন্দ করে থাকি। যার ফলে হার্টের রোগ এবং স্ট্রোকের প্রবণতা বেড়ে যায় হাড়ের ক্ষতি হতে পারেঃ অতিরিক্ত লবণ খেলে হাড় থেকে ক্যালসিয়াম ক্ষয় হতে পারে। যার কারনে অস্টিওপরোসিসের সমস্যা হতে পারে। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। তাই লবণ খাওয়া পরিত্যাগ করতে পারলেই ভালো। যাদের হার্টের অসুখ রয়েছে বিশেষত বয়স্কদের লবণ খাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করা দরকার। উচ্চ রক্তচাপঃ অতিরিক্ত পরিমাণ লবণ খাওয়ার ফলে রক্ত চাপ বেড়ে যেতে পারে। তাই লবণ না খাওয়াই ভালো। ওজন হ্রাস করেঃ খাবার পাতে লবণ দ্রুত চর্বি হ্রাস করতে সহায়ক। তাই অতিরিক্ত লবণ খেলে ওজন আরও কমে যেতে পারে। তাই যাদের ওজন কম তাদের লবণ না খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। লেখকঃ রাজীব দত্ত (প্রাবন্ধিক) তথ্য সুত্রঃ সুস্বাস্থ্য, সমসাময়িক সংবাদপত্র।