বোঝার চেষ্টা করুন, ঠান্ডা লেগে হয়েছে না মাঝে মধ্যেই। ঠান্ডা লেগে হলে অ্যান্টি অ্যালার্জিক যেমন ফেক্সোফেনাডিন (১২০ মিগ্রা) বা সেটিরিজিন (১০ মিগ্রা) খান দিনে একটা। জাইলোমেটাজোলিন ড্রপ দু’ ফোঁটা করে দু’ নাকে দিন। দিনে দু-তিন বার। জ্বর, গা হাত পা মাথাব্যথায় প্যারাসিটামল খেতে পারেন প্রয়োজন মতো। দু-তিন দিনে কষ্ট কমে যাবে। অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে প্রাথমিক চিকিত্সা অ্যান্টিঅ্যালার্জিক ট্যাবলেট এবং ন্যাসাল স্প্রে যেমন অ্যাজেলাস্টিন। অথবা স্টেরয়েড স্প্রে, ফ্লুটিকাজোন বা বুডেসোনাইড। দিনে দু-তিন বার। পরের কাজ অ্যালার্জির কারণ দূর করার চেষ্টা। কারণ না পেলে বা একাধিক জিনিসে অ্যালার্জি থাকলে কিছু নিয়ম মেনে চলা, যেমন — ১। তুলোর বালিশ, তোশক বা লেপ ব্যবহার না করা। ২।ঘর ঝাড়মোছ, বইয়ের আলমারি পরিষ্কার করা, ফ্যান মোছা, বিছানা ঝাড়া অর্থাৎ যে সব কাজে ধুলো ওড়ার সম্ভাবনা আছে তা বাদ দেওয়া। সম্ভব হলে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করুন। নাকে মুখে কাপড় পেঁচিয়ে নিন। ৩।কার্পেট না রাখাই ভালো বাড়িতে। সমস্যা হলে পর্দা এবং এ সি-ও বাদ দিতে হতে পারে। ৪।বালিশ, বিছানা নিয়মিত রোদে দিন। চাদর, বালিশের ওয়াড় ফুটন্ত জললে কাচুন মাঝেমধ্যে। তা সত্ত্বেও সমস্যা হলে বিছানায় প্লাস্টিক বিছিয়ে শুতে হতে পারে। ৫। রঙ বা মেরামতির কাজ চললে সেখান থেকে দূরে থাকুন। ৬। ধূপকাঠি, মশার ধূপ, সুগন্ধী থেকে সমস্যা বাড়লে এড়িয়ে চলতে হবে। ৭।ঘরে যেন আরশোলা না থাকে। ৮। পোষা কুকুর, বেড়াল থেকে অনেক সময় সমস্যা হয়। ৯। বেশি ঠান্ডা এবং ঠান্ডা-গরম এড়িয়ে যেতে হবে। ১০। কাজের পরিবেশে ধুলো, ধোঁয়া, রাসায়নিক বা কোনও বিশেষ গন্ধ থেকে সমস্যা হলে মাস্ক পরে দেখতে পারেন। উপকার না হলে কাজ পাল্টাতে হতে পারে। ১১। বাড়ির আশপাশে পরিবশ দূষণ বেশি হলে বাড়ি পাল্টানোর কথা মাথায় রাখবেন। ১২। কপাল খারাপ হলে টবে লাগানো ফুলগাছ থেকেও সমস্যা হতে পারে। ১৩। দরকার হলে ভ্যাকসিন নেওয়া। কীসে অ্যালার্জি তা জানা থাকলে খুব বেশি জিনিসে অ্যালার্জি না থাকলে এতে ভালোই কাজ হয়। নাকে কিছু ঢুকে হাঁচি হতে থাকলে নাক পরিষ্কার করে আইসোটোনিক নরমাল স্যালাইন নাকের ড্রপ, যেমন ন্যাসোক্লিয়ার দু-তিন ফোঁটা করে দু’ নাকে দিন। তথ্য : ডাঃ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী