মৃগী, টিউমার, স্ট্রোক, পুরোনো এনকেফেলাইটিস, আঘাত, অ্যালজায়মার ডিজিজ ইত্যাদি কারণে স্মৃতিশক্তি কমলে তার হদিশ দেয় সি টি বা এম আর আই স্ক্যান। কারণ যদি হয় অ্যালজায়মার ডিজিজ ৬২ – ৬৫ বছর বয়সি মানুষের মধ্যে বছরে ০.৫ শতাংশ হারে বাড়ছে অ্যালজায়মার। বয়স ৮৫ হলে বৃদ্ধির হার ১০ শতাংশে। এই রোগে স্মৃতিশক্তির সঙ্গে কমতে থাকে বিচারবুদ্ধি, কাজকর্মের দক্ষতা, সামাজিক বোধ। মহিলাদের এই অসুখ বেশি হয়। রিস্ক ফ্যাক্টর বয়স পারিবারিক ইতিহাস ডাউন সিনড্রোম বা অন্য ক্রোমোজোমের ত্রুটি। মাথায় আঘাত মানসিক অবসাদ অনিদ্রা উগ্র স্বভাব। চিকিত্সা অ্যান্টিকলিনেস্টারেজ গোত্রের ওষুধ রোগ বাড়তে দেয় না। কাজকর্ম এবং সামাজিক আচরণের দক্ষতা কিছুটা বাড়ে। ভিটামিন ই-ও কিছু ক্ষেত্রে কাজে আসে। অবসাদ খুব বেশি হলে দোওয়া হয় অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট। আচরণের অসংলগ্নতা বেড়ে গেলে অ্যান্টিসাইকোটিক ড্রাগও দিতে হয়। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে বিহেভিয়ার থেরাপি করা হয়। রোগ ঠেকাতে নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ খেলে রোগের প্রকোপ কম থাকে। হরমোন থেরাপিতেও সমস্যা কমে। কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ রোগের আশঙ্কা কমায়। অ্যালজায়মারের সঙ্গে অবসাদের অনেক মিল আছে। পার্থক্য একটাই। অবসাদের রোগী সব কিছু ভুলে যেতে থাকলে নিজেই তা ডাক্তারকে জানান। কিন্তু অ্যালজায়মার রোগীদের সে বোধ থাকে না। তা ছাড়া অ্যালজায়মার হয় ৬০ বছরের আশপাশে। ওই বয়সে নতুন করে মেজর ডিপ্রেশন দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা একটু কম। কারণ মালটিপল স্ট্রোক সময়ের সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমার হার গ্রাফ হিসেবে সাজালে দেখতে হয় সিঁড়ির মতো। অর্থাৎ স্মৃতিশক্তি খানিকটা কমে যাওয়ার পর বেশ কিছু দিন ওই অবস্থায় থাকে। আবার এক ধাক্কায় কমে খানিকটা। এরকম চলে। অ্যালজায়মার ডিজিজে গ্রাফ হয় সরাসরি নিন্মগামী। স্মৃতিভ্রংশতা প্রকট হওয়ার আগে অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন, হাঁটাচলার সমস্যা, হাত-পা বা শরীরের অন্য কোনও অংশের দুর্বলতা বা অসাড় ভাব। ছেলেদের এই রোগ বেশি হয়। বয়সের সঙ্গে রোগের প্রবণতা বাড়ে। নিউরোলজিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অন্যান্য কারণ মাথায় আঘাত লেগে সমস্যা হলে অপেক্ষা করা ছাড়া রাস্তা নেই। ব্রেন টিউমার অপারেশন করা যেতে পারে। সফল অপারেশনের পর স্মৃতিশক্তি সচরাচর কমে না। তবে যতটুকু কমে গেছে তার আর উন্নতি হয় না। বার বার ফিট হলে স্মৃতিশক্তি কমে। ভালো করে চিকিত্সা করে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ফুট ঠেকানো গেলেই সমস্যা কমবে। তথ্য : ডাঃ অমিতাভ চন্দ