ব্যথা সহ্যসীমায় না আসা পর্যন্ত চিত হয়ে শুয়ে বিশ্রাম নিন। উপুড় হয়ে বা পিঠের নীচে বালিশ দিয়ে আধশোয়া হয়ে শুলে কোনও লাভ হবে না। পাতলা তুলোর তোশকে শোবেন। রাবারাইজড কয়ারও চলেব। স্প্রিং বা ফোমের বিছানা নয়। বসে খাওয়ার সময় কোমরে কুশন বা বালিশের সাপোর্ট রাখবেন। গরম সেঁক দিতে পারেন। ব্যথা বেশি হলে দিনে দু-তিনটি আইব্রুপ্রফেন বা ডাইক্লোফিনেক খেতে পারেন। ভরা পেটে। সঙ্গে অ্যান্টাসিড। ৩ – ৪ দিন পরেও খুব ব্যথা থাকলে ডাক্তার দেখান। মাঝারি ব্যথা দিন সাতেকের মধ্যে না কমলে ডাক্তার দেখিয়ে এক্সরে এবং রক্ত পরীক্ষা করান। এক্সরে এবং রক্তে ত্রুটি নেই পেটের সমস্যা, স্ত্রীরোগ বা অন্য কারণে হলে অসুখটির চিকিত্সা করান। ৫-৭ দিন শুয়ে থাকুন। প্রয়োজনে ব্যথার ওষুধ খান। তীব্র ব্যথায় কিছু দিন বেল্ট পরতে হতে পারে। ১০ – ১৫ টি আলট্রাসোনিক রে-র কোর্স নেওয়া যেতে পারে। ব্যথা কমলে — ব্যায়াম এবং শোওয়া-বসার নিয়ম মেনে চলুন। ব্যথা না কমলে — সঙ্গে পায়ে ঝিন ঝিন বা অসাড় ভাব থাকলে, সোজা হয়ে দাঁড়ালে যদি সমস্যা বাড়ে, এম আর আই স্ক্যান করতে হবে। স্ক্যানে সমস্যা না থাকলে — প্রয়োজনে ব্যথার ওষুধ খান ট্র্যাকশন নিতে হতে পারে কোমরে বেল্ট পরতে হতে পারে ব্যথা কমলে ব্যায়াম শুরু করুন। স্ক্যানে সামান্য ডিস্ক প্রোলাপস আছে — ব্যথার ওষুধ দু-তিন সপ্তাহ ট্র্যাকশন, বেল্ট ব্যথা কমলে ব্যায়াম বড় ডিস্ক প্রোলাপস প্রচলিত চিকিত্সায় না সারলে আপারেশন লাগতে পারে। এক্সরেতে ত্রুটি আছে, রক্ত পরীক্ষায় নেই বয়স হলে প্রধান কারণ স্পন্ডাইলোসিস। কারও আবার সঙ্গে অস্টিওপোরোসিস থাকে। অর্থাৎ ভঙ্গুর হাড়। ব্যথা না কমা অবধি শুয়ে বিশ্রাম নিন। ট্র্যাকশন নিতে হতে পারে। প্রয়োজনমতো ব্যথার ওষুধ খেতে হবে। কোমরে বেল্ট পরুন। আলট্রাসোনিক রে নিতে হবে। অস্টিওপোরেসিস থাকলে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি থ্রি ট্যাবলেট খান। হরমোন থেরাপিও করতে হতে পারে। ব্যথা কমে গেলে : শোওয়া-বসার নিয়ম এবং ব্যায়াম শুরু করুন। ব্যথা না কমলে : আরও কিছু দিন ট্র্যাকশন এবং রে। না কমলে এম আর আই স্ক্যান করে দেখতে হবে বেড়ে যাওয়া হাড় স্নায়ুতে চাপ দিচ্ছে কি না (স্পাইনাল স্টেনোসিস)। দিলে আপারেশন। যদিও এর প্রয়োজন খুব কমই হয়। স্কোলিওসিস, কাইফোসিস, স্পন্ডাইলোলিসথেসিস হলে — ব্যথার ওষুধ ট্র্যাকশন বেল্ট আল্ট্রাসোনিক রে। ব্যথা কমলে ব্যায়াম। না সারলে আপারেশন লাগতে পারে। এক্সরে এবং রক্তে ত্রুটি আছে অ্যাঙ্কাইলোসিং স্পন্ডিলাইটিস হাড়ের টি বি হাড়ের ক্যান্সার ইত্যাদি। অ্যাঙ্কইলোসিং স্পন্ডিলাইটিস আপাত কোনও কারণ ছাড়াই শুরু হয় মারাত্মক কোমর ব্যথা। ধীরে ধীরে শিরদাঁড়া এবং কুঁচকির পাশের হাড়ে পৌঁছে যায়। শরীর সামনের দিকে বেঁকতে শুরু করে। মেরুদণ্ডের নীচের হাড়, কোমরের সন্ধি, হাঁটু — সব জমাট বাঁধতে শুরু করে। রোগ বেড়ে গেলে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। কম বয়সি ছেলেদের এই রোগ বেশি হয়। কী করবেন ব্যথার ওষুধ খান। সন্ধি গুলিকে সচল রাখার চেষ্টা করে যান। ডাক্তারের পরামর্শমতো চলুন। কোমরের হাড় পুরোপুরি জমাট বেঁধে গেলে টোটাল হিপ রিপ্লেসমেন্ট অর্থাৎ জমাট সন্ধি কেটে বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক বা স্টিলের সন্ধি বসাতে হতে পারে। হাড়ের টি বি উপসর্গ হঠাৎ মারাত্মক কোমর ব্যথা। শিরদাঁড়ার একটা বিশেষ অংশ টিপলে প্রচন্ড ব্যথা। ঘুস ঘুসে জ্বর। খিদে কমে গেছে, স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে। চিকিত্সা এক্সরে, রক্ত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে সি টি বা এম আর আই স্ক্যান করে দ্রুত চিকিত্সা শুরু করুন। দেরি হলে প্যারালিসিস হয়ে যেতে পারে। মূল চিকিত্সা টি বির ওষুধ। বিছানায় শুয়ে থাকা। রোগ না সারলে বা পা অসাড় হতে শুরু করলে আপারেশন করতে হতে পারে। ক্যান্সার ভয়ানক যন্ত্রণা। দেরি না করে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।