গাড়ির ধাক্কায় বা উঁচু থেকে পড়ে গেলে সচরাচর ফিমার বোনে চোট লাগে। ফোলা, প্রচণ্ড ব্যথা , পা নাড়াতে পারেছ না এ রকম হলে — ব্যথার ইনজেকশন নিন। না পেলে ট্যাবলেট খান। টমাস স্প্লিন্ট নামে লোহার খাঁচা পাওয়া যায় যার মাথায় বড় রিং থাকে। দু’ ধারে এবং নীচে থাকে চওড়া লোহার রড, পায়ে এই রিং গলিয়ে থাইয়ের কাছে নিয়ে যান। পায়ের দু’ পাশে এবং তলায় রড তিনটি থাকে। রড এবং পা-কে ঘিরে ব্যান্ডেজ করে দিলে পায়ের নাড়াচাড়া বন্ধ হয়ে যায়। ব্যথা কম লাগে। ভাঙা হাড়গোড় স্থানচ্যুত হয় না। স্প্লিন্ট না পেলে পায়ের নীচে এবং দু’ পাশে প্যাডিং করা কাঠের পাটাতন বা নিদেনপক্ষে কাঠের স্কেল রেখে ব্যান্ডেজ বাঁধুন। অভিজ্ঞ কাউকে পাওয়া গেলে ভালো। থাইয়ের হাড় অর্থাৎ ফিমার বোন তেমন ভাবে ভাঙলে ভেতরে রক্তপাত হয় রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যেতে পারে। কাজেই তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান। এক্সরে করান। হাড় ভাঙেনি, চোট পেশিতে প্রয়োজেন ক্রেপ ব্যান্ডেজ বাঁধুন। ৪ – ৫ দিন ব্যথার ওষুধ লাগতে পারে। ব্যথা না কমা পর্যন্ত পা উঁচু করে রাখুন বেশির ভাগ সময়। ব্যথা বেশি হলে বা চলাফেরা করতে অসুবিধে হলে বাইরের কাজকর্ম বন্ধ রাখুন। ব্যথা কমলে হাঁটু এবং থাইয়ের ব্যায়াম শুরু করুন। হাঁটু ভাজ করা সোজা করা। হাঁটু সোজা রেখে শুয়ে পা তোলা নামানো। বসে টুলের উপর পা তুলে থাইয়ের মাংসপেশি শক্ত এবং ঢিলে করা। হাড় ভেঙেছে, স্যাফট ফিমার ফ্র্যাকচার বাচ্চাদের টমাস স্প্লিন্টে পা ঢুকিয়ে, বেঁধে ৪ – ৮ সপ্তাহ ট্র্যাকশন দিয়ে রাখতে হয়। মাঝেমধ্যে এক্সরে করে দেখতে হয় হাড় জুড়ছে কি না। জুড়তে শুরু করলে আড়াই-তিন মাসের জন্য কোমর এবং পা প্লাস্টার করা যেতে পারে। একে বলে হিপ স্পাইকা। i শুয়েবসে থাকতে হয়। এক্সরে করে দেখা হয় হাড় জায়গা মতো আছে কি না। একটু এদিক-ওদিক থাকলেও চিন্তা নেই। বয়সের সঙ্গে ত্রুটি ঠিক হয়ে যায়। প্লাস্টার কাটার পর গরম সেঁক, থাই এবং হাঁটুর ব্যায়াম। পা একটু ফোলে। ব্যায়াম, সেঁক এবং হাঁটাচলা শুরু হলে ফোলা কমে যায়। ঠিক হতে মাস তিনেক লাগে। এর পর ধীর ধীরে খেলাধুলোও শুরু করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে প্লাস্টারের বদলে আড়াই-তিন মাস ট্র্যাকশন দিয়ে রাখা হয়। বয়স্কদের ট্র্যাকশনের চেয়ে রড বা প্লেট স্ক্রু দিয়ে হাড় জুড়ে প্লাস্টার করা বেটার। সব চেয়ে ভাল ইন্টারলকিং নেল। খুব ছোট করে কাটা হয়। প্লাস্টার লাগে না। ৫ – ৭ দিন পর ক্র্যাচ নিয়ে হাঁটতে পারেন। ব্যায়াম করতে পারেন। ৩ – ৪ মাসে স্বাভাবিক জীবন ফিরে আসার কথা। কিছু ক্ষেত্রে ৬ – ৮ মাস লেগে যায়। কখনও হাড় জোড়ে না। তখন কোমর থেকে হাড় কেটে বোন গ্র্যাফটিং করা হয়। হাড়ের সঙ্গে পায়ের শিরা জখম হলে সঙ্গে সঙ্গে মেরামত না করলে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে পা শুকিয়ে অকেজো হয়ে যেতে পারে। প্রথম দু’ সপ্তাহের মধ্যে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, মুখে বা বুকে ছোট লাল দানা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে আই টি ইউ-তে স্থানান্তরিত করতে হবে, দেরি হলে বিপদ হতে পারে।