দু’ চোখ লাল, মন্দের ভালো। এক চোখ লাল প্রায়শই বিপদের বার্তা নিয়ে আসে। কারণ অ্যালার্জিক-ভারনাল-ফ্লেকটিনিউলার কনজাংটিভাইটিস এবং সাবকনজাংটিনাল হেমারেজ সাধারণ কারণের মধ্যে পড়ে। মাঝারি বিপদের কারণের মধ্যে আছে জয় বাংলা, এপিস্ক্লেরাইটিস, স্ক্লেরাইটিস। কর্নিয়াল আলসার, আইরাইটিস, অ্যাকিউট অ্যাংগেল ক্লোসার গ্লকোমা হলে বিপদ। অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস চোখ লাল সঙ্গে চুলকানি। ধুলো, পেট্রোল বা কয়লার ধোঁয়া, মশার ধূপ, গ্যাস, ফুলের রেণু ইত্যাদি থেকে অ্যালার্জি হতে পারে। যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। চোখ রগড়াবেন না। পরিষ্কার জলের ঝাপটা দিন। দিনে ৩ – ৪ বার অন্তত। অ্যান্টিঅ্যালার্জিক ট্যাবলেট খান। অ্যান্টিঅ্যালার্জিক ড্রপও দিতে হতে পারে। রাস্তায় বেরোলে রোদ চশমা পরে নিন। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এই জাতীয় সমস্যা হয় না সাধারণত। সারতে ১৫ – ২০ দিন সময় লাগে। ভারনাল কনজাংটিভাইটিস দু’টো চোখেই লাল হয়, প্রচণ্ড চুলকায়। ৬ – ১২ বছর বয়সি, বাড়ির বড় ছেলেদের বেশি হয়। পরপর তিন বছর হতে থাকে। ঝামেলার সময় মার্চ – মে মাস। সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখান। খুশিমতো চললে চোখের ক্ষতি হবে। এক বছরের ড্রপ পরের বছর ব্যবহার করবেন না। প্রতি বারই ডাক্তার দেখান। চোখ রগড়াবেন না। প্রয়োজনে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন। বাইরে বেরোলে সানগ্লাস পরে নিন। সারতে কিছু দিন সময় নেয়। তবে পড়াশোনা বা চোখের কাজে অসুবিধে নেই। ফ্লেকটিনিউলার কনজাংটিভাইটিস ১ – ৬ বছর বয়সি বাচ্চাদের চোখের অ্যালার্জিঘটিত অসুখ। শীতকালে বেশি হয়। চোখের মণির পাশে ঘামাচির মতো দানা এবং তার চার পাশ লাল হয়ে থাকে। রোগের কারণ শরীরের অন্য কোনও প্রত্যঙ্গের সংক্রমণ। বিশেষ করে যক্ষ্মা। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক দিয়ে চিকিত্সা করান। সাবকনজাংটিভাল হেমারেজ অর্থাত চোখের উপরিতলে সামান্য রক্তপাত। ১০ – ১৫ দিনে নিজে থেকে ঠিক হয়ে যায়। হতে পারে নানা কারণে — আঘাত উচ্চ রক্তচাপ অতিরিক্ত কোষ্ঠকাঠিন্য মারাত্মক কাশি রক্তের কিছু অসুখ ভিটামিন ‘সি’ – র অভাব একেবারে অকারণে অথবা সাধারণ কোনও অজানা কারণে। কোনও অসুখের জন্য রক্তপাত হলে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের সাহায্য নিতে হবে। জয়বাংলা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে দু’ চোখই জবা ফুলের মতো লাল হয়, চোখে বালি পড়েছে মনে হয়, চোখের কোণায় পিচুটি জমে, ঘুম থেকে উঠলে চোখের পাতা জুড়ে থাকে। ভাইরাস সংক্রমণে পিচুটি অপেক্ষাকৃত কম থাকে। কিন্তু চোখ খুব ফোলে, চুলকানি থাকে, লাল হয়। ঠান্ডা পরিষ্কার জল দিয়ে দিনে ৩ – ৪ বার চোখ ধুতে থাকুন। ফুটন্ত জলে তুলো ফেলে ঠান্ডা করে চোখ পরিষ্কার করতে পারেন। চোখে আঙুল বা রুমাল লাগাবেন না। ব্যাকটেরিয়াল কনজাংটিভাইটিসে ডাক্তারের পরামর্শমতো অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ দিন। দিনে ৮ – ১০ বার বা প্রয়োজনে ঘণ্টায় ঘণ্টায়। রাত্রে চোখে মলম লাগিয়ে শোবেন। ভাইরাল কনজাংটিভাইটিসে চুলকানি কমাতে অ্যান্টিহিস্টামিনিক বা অ্যাস্ট্রিনজেন্ট ড্রপ, যেমন জিঙ্ক বোরিক দেওয়া যেতে পারে। ৩ – ৪ দিনে না কমলে ডাক্তার দেখান। অবহেলা করলে কর্নিয়া আক্রান্ত হয়ে চোখ খারাপ হয়ে যেতে পারে। রুমাল, বালিশ, তোয়ালে আলাদা করে দিন, আক্রান্ত চোখে হাত দিয়ে সেই হাতে অন্যের ব্যবহার্য কিছু ধরবেন না। কারও সঙ্গে এক বিছানায় শোবেন না। এক সঙ্গে খাওয়া, গল্প চলতে পারে। কারণ চোখের দিকে তাকালে রোগ ছড়ায় না। এপিস্ক্লেরাইটিস, স্ক্লেরাইটিস চোখের সাদা ‘স্ক্লেরাল’ কিছু অংশ লাল ও উঁচু হয়ে যায়। ব্যথা হয়। মহিলাদের বেশি হয়। সঙ্গে বাতের সমস্যা থাকে। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক এবং চোখের ডাক্তার মিলে চিকিত্সা করেন। কর্নিয়াল আলসার চোখ লাল, মণিতে সাদা ঘা, ব্যথা আলোর দিকে তাকাতে কষ্ট দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। চোখ দিয়ে জল পড়ে দেরি না করে চোখের ডাক্তার দেখান। আইরাইটিস চোখ লাল, ব্যথা, দৃষ্টিশক্তির ঘাটতি, সঙ্গে বাত বা ডায়াবেটিস আছে কি না দেখতে হবে। অসুখ দু’টি সরিয়ে ফেললে আইরাইটিসের সম্ভাবনা কমে যায়। অ্যাকিউট অ্যাঙ্গেল ক্লোসার গ্লকোমা চোখ লাল, মারাত্মক ব্যথা অস্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি হ্রাস মহিলাদের বেশি হয়। প্লাস পাওয়ার থাকলে আশঙ্কা আরও বেশি। ব্যথার চোটে ডাক্তারের কাছে এমনিই ছুটতে হবে। তথ্য : ডাঃ জ্যোতির্ময় দত্ত