ঠেকাবেন কী করে জন্মগত গ্লকোমা ঠেকানোর রাস্তা নেই। প্রাইমারি গ্লকোমার ক্ষেত্রে রক্তের সম্পর্কযুক্ত কোনও আত্মীয়ের যদি এ রোগ থাকে ৪০ বছর বয়সের পর বছরে এক বার চোখের ডাক্তার দেখান। তিন ধরনের পরীক্ষা করতে হবে। টেনোমেট্রিক অর্থাৎ চোখের ভিতরে তরলের চাপ মাপা। অপথ্যালমোস্কোপ দিয়ে চোখের স্নায়ুতে ত্রুটি আছে কি না দেখা। একে বলে অপটিক নার্ভ টেস্ট। ভিস্যুয়াল ফিল্ড অ্যানালিসিস — রোগ হয়েছে সন্দেহ হলে এই পরীক্ষা করা হয়। কোথায়, কতখানি ক্ষতি হয়েছে তা বোঝা যায় এতে। সেকেন্ডারি গ্লকোমা : যে যে কারণে সেকেন্ডারি গ্লকোমা দেখা দিতে পারে তা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা। যেমন — চোখ লাল, চুলকানি, জল পড়া, ব্যথা ইত্যাদি হলে তাড়াতাড়ি চোখের ডাক্তার দেখানো। ছানি অপারশনের প্রয়োজন হলে দেরি না করা। চোখে যাতে চোট না লাগে, লাগলে তাড়াতাড়ি ডাক্তার দেখানো। কী করবেন সঙ্গে সঙ্গে চিকিত্সা। অনেক সময় ওষুধেই কাজ হয়। জটিল রোগে অপারেশন লাগে। চিকিত্সা চলাকালীন কিছু নিয়ম মেনে চলুন। যেমন — মাথা বা চোখে চাপ পড়ে এমন ব্যায়াম করবেন না, বিশেষ করে শীর্ষাসন। জল খাবেন ধীরে ধীরে। এক সঙ্গে এক গ্লাসের বেশি নয়। মানসিক রোগের কিছু ওষুধ চোখে চাপ বাড়াতে পারে। কাজেই এই সব ওষুধ খেতে হলে চোখের ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে নেবেন। অজ্ঞান করার ওষুধেও চোখের চাপ বাড়তে পারে। কাজেই অপারেশনের কথা থাকলে অ্যানসথেটিস্টকে রোগের কথা জানিয়ে রাখুন। গ্লকোমাতে অনেক সময় দু’ পাশের দৃষ্টি কমে যায়। সে রকম হলে সাইকেল, স্কুটার চালানো বন্ধ করুন। ওষুধ চলবে সারা জীবন। মানসিক প্রস্তুতি নিন। নিয়মিত চোখের ডাক্তার দেখান। ছ’ মাস বাদে বাদে ভিস্যুয়াল ফিল্ড টেস্টিং করতে ভুলবেন না। মনে রাখবেন চিকিত্সা চালালে রোগ আয়ত্তে থাকে। কিন্তু ক্ষতি যা হয়ে গেছে তা আর ঠিক করা যায় না। কাজেই দ্রুত রোগ নির্ণয় জরুরি। তথ্য : ডাঃ জ্যোতির্ময় দত্ত