গান্ধীবাদ তথা গান্ধী দর্শন অনুসরণ করেই স্বচ্ছ ভারত অভিযানের সূচনা। ঐশ্বরিক নান্দনিকতার পরবর্তী পর্যায় হল স্বচ্ছতা — এই মহান লক্ষ্যকে সামনে রেখেই স্বচ্ছ ভারত অভিযানের ব্যঞ্জনা ও সূচনা। বর্তমানে ৭৪ শতাংশ সাক্ষর মানুষের দেশ আমাদের ভারত। কিন্তু স্বাধীনতার ৬৭ বছর পরেও স্বাস্থ্যরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার সমস্যাটি এখনও বেশ উদ্বেগজনক। পর্যাপ্ত অনাময় ব্যবস্থার অভাব যে রোগব্যাধির মূল এবং উন্নত মানের অনাময় ব্যবস্থা স্বাস্থ্যরক্ষা ও সুস্থ সুন্দর জীবনের প্রতিশ্রুতি — এই সত্য আজ সারা বিশ্বেই স্বীকৃতি লাভ করেছে। এই সহস্রাব্দ উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কিত প্রস্তাবে যে সমস্ত দেশ সাক্ষর করেছে, তারা সকলেই অঙ্গীকারবদ্ধ ২০১৫ সালের মধ্যে শহরাঞ্চলে অন্তত অর্ধেক এবং ২০২৫ সালের মধ্যে শহরের একশো শতাংশ মানুষের কাছে উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার। এর ফলে উন্নত স্বাস্থ্যবিধির অভাব রয়েছে এমন গৃহস্থ বাড়িতে তা সম্প্রসারিত হবে এবং একই সঙ্গে জনসাধারণের ব্যবহার্য বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্যবিধির সুযোগসুবিধা পৌঁছে দেওয়া যাবে। এর একটি সুফল হল শহরের উন্মুক্ত স্থানে প্রাকৃতিক কাজকর্ম সেরে ফেলার কু-অভ্যাস বন্ধ করা যাবে। কিন্তু আমাদের দেশের সামগ্রিক অনাময় ব্যবস্থার উপর সময়ে সময়ে যে সমস্ত সমীক্ষা চালানো হয়, তার রিপোর্টে কিন্তু একটি উদ্বেগজনক চিত্রই ফুটে ওঠে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং ইউনিসেফ-এর যৌথ তদারকি কর্মসূচির আওতায় ভারতে জলের জোগান এবং স্যানিটেশন সংক্রান্ত ব্যাপারে অনুসন্ধান চালানো হয়েছিল। তাতে জানা গিয়েছে, সহস্রাব্দের উন্নয়নের লক্ষ্য ২০১৫-তে পৌঁছতে ভারতকে ২০৫৪ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ সম্পর্কে যে সমীক্ষা চালানো হয়েছিল তার রিপোর্টে বলা হয়েছে, আমাদের দেশের ওড়িশায় এই লক্ষ্যপূরণে সময় লাগবে সব চেয়ে বেশি -- ২১৬০ সাল পর্যন্ত। স্বচ্ছ ভারত অভিযানকে সফল করে তুলতে কয়েকটি মূল বিষয়ের উপর দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। সেগুলি হল --- ক) সমস্ত বাসস্থানে জলের নিশ্চিত জোগান খ) বাসযোগ্য সমস্ত এলাকায় ব্যক্তিগত এবং জনসাধারণের সকলের ব্যবহারের জন্য শৌচাগার। গ) উপযুক্ত নিকাশি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং জঞ্জাল অপসারণ ও বর্জ্য নিষ্কাশন। ঘ) পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রাথমিক সুযোগ সুবিধার প্রসার। ঙ) স্বচ্ছ ভারত অভিযানকে সফল করে তুলতে জনসচেতনতার প্রসার। সূত্র : যোজনা, জানুয়ারি ২০১৫