সুলভে ওষুধ কিনুন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যাতে সুলভে ওষুধ পান তার জন্য এক প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে ওষুধের সুলভ মূল্যের বিপণি খোলা হয়েছে। এই বিপণিগুলি চলছে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য সঠিক গুণমানের ওষুধ, অন্যান্য ব্যবহার্য দ্রব্য, শল্যচিকিৎসার সরঞ্জাম ও প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত দ্রব্য (ইমপ্ল্যান্ট) ইত্যাদি যাতে দিবারাত্রি অত্যন্ত সুলভে পাওয়া যায় তা সুনিশ্চিত করা। বিপণির সংখ্যা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে এই বিপণি শুরু করার জন্য প্রথম পর্যায়ে মোট ৩৫টি হাসপাতালকে নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে মেডিক্যাল কলেজ, জেলা হাসপাতাল এবং নির্বাচিত মহকুমা হাসপাতাল রয়েছে। রোগীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বিভিন্ন হাসপাতালে এই কর্মপ্রকল্পের অধীনে সমস্ত দ্রব্যের সর্বোচ্চ খুচরো মূল্যের উপরে ৪৮ শতাংশ থেকে ৬৭.২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। প্রাপ্ত পরিষেবা এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত তালিকায় ১৪২টি শ্রেণিগত নামের ওষুধ আছে। এই তালিকা পরিবর্তনশীল। তালিকায় থাকা ওষুধগুলি জেএসএসকে নির্দেশিকার অধীন তথা আরএসবিওয়াই কর্মপ্রকল্পের দ্বারা অনুমোদিত। এ ছাড়া শল্যচিকিৎসা সরঞ্জাম সহ ৩৮টি দ্রব্যের আবশ্যিক তালিকা রয়েছে। অর্থপেডিক ও কার্ডিওলজি সংক্রান্ত সামগ্রী/প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত দ্রব্যও তালিকায় আছে। রোগীরা যাতে তাঁদের চাহিদা মেটাতে ১৪২টি ওষুধের বাইরেও অতিরিক্ত ওষুধ(ব্র্যান্ডভুক্ত/শ্রেণিগত) কিনতে পারেন তারও ব্যবস্থা রয়েছে। গুণমান ওষুধ প্রস্ততকারীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত সামগ্রীগুলি সংগ্রহ করে মজুত করার জন্য যে সমস্ত গুণমান ও অন্যান্য মাপকাঠিগুলি অনুসরণ করতে হবে সেগুলি বেসরকারি অংশীদারদের ক্ষেত্রেও মানার ব্যাবস্থা এই কর্মপ্রকল্পের আওতায় রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিপণিতে মজুত সামগ্রীর মধ্যে থেকে যদৃচ্ছ ভাবে বেছে নিয়ে ব্যাচগুলির গুণমান পরীক্ষা করবেন। নজরদারি এই সব বিপণিতে বিক্রি, মালপত্রের তালিকা, স্টক আউট ইত্যাদি প্রাত্যহিক লেনদেনের জন্য অনুমোদিত সফটওয়্যার প্যাকেজ চালু করা হয়েছে। এটি সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য ভবনের সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত করা হয়েছে যাতে বিক্রি ও মালপত্রের তালিকা ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়। এই প্রকল্পের উপর নজরদারি চালানোর জন্য রাজ্য সরকার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি নজরদারি কমিটি গড়া হয়েছে। সূত্র :পশ্চিমবঙ্গ জুন-আগস্ট ২০১৩