<div id="MiddleColumn_internal"> <p style="text-align: justify; ">পরিবার পরিকল্পনা মহিলা এবং বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য একটি শক্তিশালী পন্থা। উন্নতিশীল দেশগুলির দশকোটি মহিলা, যারা বিবাহিত, বা কোনো পুরুষের সাথে বাস করেন, জানান যে তাদের গর্ভনিরোধের কোনো ব্যবস্থা হয় না। সবার জন্য, নবযুবতীদের সহ, পরিবার পরিকল্পনার সুযোগ, বিশেষতঃ যে সব দেশে অল্পবয়সে বিয়ে হয়, এবং সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ মা এবং শিশুর অক্ষমতা ও মৃত্যু নিবারনে সাহায্য করবে।</p> <p style="text-align: justify; ">অতিরিক্ত জন্মদান, খুব অল্প বিরতিতে জন্মদান, নবযুবতী অবস্থায় বা ৩৫ বছর বয়সের পরে জন্মদান মহিলাদের জীবনে বিপদ আনতে পারে এবং শিশুমৃত্যুর এক-তৃতীয়াংশের কারণ হয়।</p> <ul style="text-align: justify; "> </ul> <h3 style="text-align: justify; ">জন্মদানের ঠিক সময় সম্পর্কে যা জানার অধিকার প্রতিটি পরিবার এবং প্রতিটি সম্প্রদায়ের আছে</h3> <ul style="text-align: justify; "> <li> ১৮ বছর ব্যসের আগে এবং ৩৫ বছর বয়সের পরে গর্ভধারণ মা এবং সন্তানের স্বাস্থ্যের উন্নতি ধীরে হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।</li> <li> মায়েদের এবং সন্তানদের স্বাস্থ্যের জন্য, দুবার জন্মদানের মধ্যে কম করে দুবছর বিরতি থাকা দরকার।</li> <li> চারবার গর্ভধারণের পর গর্ভধারণে বিপদের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।</li> <li> পরিবার পরিকল্পনা সেবা লোকেদের শিক্ষা দেয় ও উপায় জানায় – কখন সন্তান জন্মদান শুরু করতে হবে, কটা সন্তানের জন্ম দিতে হবে, কতদিন ব্যবধানে এবং কখন থামতে হবে। গর্ভধারণ এড়ানোর জন্য অনেক বিপদহীন ও গ্রহণযোগ্য উপায় আছে।</li> <li> পরিবার পরিকল্পনা পুরুষ ও নারী উভয়ের দায়িত্ব ; স্বাস্থ্যের উপকার সম্পর্কে প্রত্যেকের জানা দরকার।</li> </ul> <h3 style="text-align: justify; ">সহায়ক খবর</h3> <h4 style="text-align: justify; ">মূল বার্তা ১ : ১৮ বছর ব্যসের আগে এবং ৩৫ বছর বয়সের পরে গর্ভধারণ মা এবং সন্তানের স্বাস্থ্যের উন্নতির ধীরগতির সম্ভাবনা বাড়ায়।</h4> <ul style="text-align: justify; "> <li>প্রতিবছর গর্ভাবস্থা এবং প্রসবকালের সমস্যায় প্রায় ৫,১৫,০০০ মহিলা মারা যায়। এর প্রায় ৩০ গুণের অক্ষমতাজনিত সমস্যার সৃষ্টি হয়। পরিবার পরিকল্পনা এইসব মৃত্যু এবং অক্ষমতার অনেকটাই নিবারণ করতে পারে।</li> <li>প্রথম গর্ভবস্থার জন্য একটা মেয়ে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করলে নিরাপদ গর্ভাবস্থা ও প্রসব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এটা বিশেষ করে জরুরী যে সব দেশে তাড়াতাড়ি বিয়ে হওয়াটাই প্রথা। </li> <li>একটি মেয়ে প্রায় ১৮বছর বয়সের আগে শারীরিকভাবে সন্তানধারণের উপযুক্ত হয় না। একজন পূর্ণবয়স্ক মহিলার তুলনায় নবযুবতীর পক্ষে প্রসব বেশী কষ্টকর ও বিপজ্জনক। খুব কম বয়সের মায়ের বাচ্চার প্রথম বছরেই মৃত্যুসম্ভাবনা থাকে। মায়ের বয়স যত কম হবে মা এবং বাচ্চার বিপদের সম্ভাবনা তত বেশী হবে।</li> <li>কম বয়সী মেয়েদের গর্ভাবস্থা বিলম্বিত করার জন্য বিশেষ সাহায্য দরকার। তাদের এবং তাদের পরিবারকে তাড়াতাড়ি গর্ভধারণের বিপদ ও তা এড়ানোর উপায় জানানো দরকার।</li> <li>৩৫ বছর বয়সের পরে প্রসবকালীন বিপদ আবার বাড়তে থাকে। একজন মহিলার যদি ৩৫ বছর বয়স হয়, এবং চার বা তার বেশী বার গর্ভধারণ করে থাকে, আবার গর্ভধারণ তার নিজের ও ভ্রুণের স্বাস্থ্যের গুরুতর বিপদ করতে পারে। </li> </ul> <h4 style="text-align: justify; ">মূল বার্তা ২ : মায়েদের এবং সন্তানদের স্বাস্থ্যের জন্য দুবার জন্মদানের মধ্যে কম করে দুবছর বিরতি থাকা দরকার।</h4> <p style="text-align: justify; ">ছোট বাচ্চার মৃত্যুর সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ বেড়ে যায় যদি দুবার জন্মদানের মধ্যে দুবছরের কম ব্যবধান থাকে।</p> <p style="text-align: justify; ">দুবছরের বাচ্চার জন্য আর একটা বাচ্চার জন্ম সবথেকে ভয়ের কারণ। বড় বাচ্চাটাকে বুকের দুধ খাওয়ানো তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যায়, আবার ছোট বাচ্চার জন্য বিশেষ খাবার তৈরী করার সময় মায়ের কমে যায়। সে বড় বাচ্চার যত্ন এবং দেখাশোনা ঠিকমতো করতে পারে না, বিশেষতঃ বাচ্চার অসুস্থতার সময়। ফলে দুবছরের কম ব্যবধানের বাচ্চাদের শারীরিক ও মানসিক উন্নতি, দুবছর বা তার বেশী ব্যবধানের বাচ্চাদের তুলনায় কম হয়।</p> <p style="text-align: justify; ">গর্ভাবস্থা এবং প্রসবের পর একজন মহিলার শরীর সম্পূর্ণ সেরে উঠতে দুবছর সময় লাগে। তাই খুব তাড়াতাড়ি বাচ্চার জন্ম দিলে মায়ের স্বাস্থ্যহানির সম্ভাবনা বেশী হয়। পুনরায় গর্ভবতী হওয়ার আগে মায়ের স্বাস্থ্য, পুষ্টিগত অবস্থা এবং শক্তি ফিরে পাওয়ার জন্য সময় দরকার।</p> <p style="text-align: justify; ">পরিবারের স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য পুরুষদের জানা দরকার দুবছর ব্যবধানের গুরুত্ব এবং গর্ভাবস্থা সীমিত রাখার প্রয়োজনীয়তা।</p> <p style="text-align: justify; ">একবার গর্ভাবস্থা থেকে সম্পূর্ণ সেরে অঠার আগেই যদি একজন মহিলা আবার গর্ভবতী হয়, বাচ্চা তাড়াতাড়ি হয়ে যাবার এবং ওজন খুব কম হওয়ার সম্ভাবনা বেশী হয়। কম ওজন নিয়ে জন্ম হওয়া বাচ্চার ভালভাবে বেড়ে অঠার সম্ভাবনা কম হয়, অসুখ-বিসুখের সম্ভাবনা বেশী হয় এবং প্রহম বছরে মৃত্যুর সম্ভাবনা স্বাভাবিক ওজন নিয়ে জন্মানো বাচ্চার তুলনায় চারগুন বেশী হয়।</p> <h4 style="text-align: justify; ">মূল বার্তা ৩ :চারবার গর্ভধারণের পর গর্ভধারণে বিপদের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।</h4> <p style="text-align: justify; ">বারবার গর্ভধারন, প্রসব, বুকের দুধ খাওয়ানো এবং দেখাশোনা করা, একজন মহিলার শরীরকে সহজেই নিঃশেষিত করে দিতে পারে। চারবার গর্ভধারনের পর, বিশেষতঃ দুটো প্রসবের মধ্যে যদি দু বছরের কম ব্যবধান থাকে, তাহলে সে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার সন্মুখীন হতে পারে যেমন এ্যানিমিয়া(পাতলা রক্ত), এবং হেমারেজ (বেশীরকম রক্তক্ষয়)।</p> <p style="text-align: justify; ">মায়ের চারবার বা তার বেশী প্রসব হলে বাচ্চার মৃত্যুর সম্ভাবনা বেশী হয়।</p> <h4 style="text-align: justify; ">মূল বার্তা ৪:পরিবার পরিকল্পনা-সেবা লোকেদের শিক্ষা দেয় ও উপায় জানায় – কখন সন্তান জন্মদান শুরু করতে হবে, কটা সন্তানের জন্ম দিতে হবে, কতদিন ব্যবধানে এবং কখন থামতে হবে। গর্ভধারণ এড়ানোর জন্য অনেক বিপদহীন ও গ্রহণযোগ্য উপায় আছে।</h4> <ul style="text-align: justify; "> <li>স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির উচিৎ লোকেদের পরিবার পরিকল্পনার এমন উপদেশ দেওয়া যা গ্রহণযোগ্য, নিরাপদ, সুবিধাজনক, কার্য্যকরী এবং সামর্থ্যের মধ্যে।</li> <li>গর্ভনিরোধক পদ্ধতিগুলির মধ্যে একমাত্র কন্ডমই গর্ভনিরোধ এবং যৌনক্রিয়া দ্বারা সংক্রমিত রোগ, এইচআইভি/এইডস সহ, প্রতিরোধ করে। </li> <li>সম্পূর্ণরুপে বুকের দুধ খাওয়ানো, প্রসবের পর মায়ের আবার সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা ফিরে আসতে ছয়মাস দেরী করতে পারে। সম্পূর্ণ বুকের দুধ খাওয়ানো, মায়ের গর্ভনিরোধ ৯৮ শতাংশ নিশ্চিত করে যদি বাচ্চার বয়স ছয় মাসের কম হয়, মায়ের মাসিক স্রাবচক্র ফিরে না আসে এবং চাইলেই শুধু বুকের দুধ খাওয়ানো হয় – বাইরের কোন খাদ্য বা পানীয় না দেওয়া হয়। </li> </ul> <h4 style="text-align: justify; ">মূল বার্তা ৫: পরিবার পরিকল্পনা পুরুষ ও নারী উভয়ের দায়িত্ব ; স্বাস্থ্যের উপকার সম্পর্কে প্রত্যেকের জানা দরকার।</h4> <ul style="text-align: justify; "> <li>পুরুষ এবং মহিলাদেরও দায়িত্ব নিতে হবে অপরিকল্পিত গর্ভাবস্থার জন্য। খবর এবং উপদেশ পাওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে যাতে তারা পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন উপলব্ধ পন্থা সম্পর্কে অবহিত হন। </li> <li>ডাক্তার, নার্স, শিক্ষক, পরিবার পরিকল্পনাকেন্দ্র এবং যুব বা মহিলা সংগঠনের থেকেও খবরাখবর পাওয়া যেতে পারে।</li> </ul> <p style="text-align: justify; "><strong>সুত্রঃ </strong><a class="external-link ext-link-icon" href="http://www.factsforlifeglobal.org/01/" target="_blank"> UNICEF </a></p> </div>