অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী একটি গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ ওষধি গাছ। অ্যালোভেরা গাছের গোড়া থেকেই সবুজ রঙের পাতা হয় এবং পাতাগুলো পুরু ধরনের হয় যার দুই পাশেই করাতের মতো ছোট ছোট কাঁটা থাকে। পাতার ভেতরে স্বচ্ছ পিচ্ছিল ধরনের শাঁস থাকে যাকে অ্যালোভেরা জেল বলা হয়। এই গাছের পাতা থেকেই নতুন গাছ জন্মায়। ভেষজ গুণ অ্যালোভেরায় রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিএইজিং উপাদান যা ত্বকের সুরক্ষায় বিশেষ ভাবে কার্যকর। প্রতি দিন ১ গ্লাস অ্যালোভেরার শরবত পান করলে দেহের ভেতর থেকে ত্বকের নানা সমস্যা যেমন ব্রন, ইনফেকশন এমনকী ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। এ ছাড়াও অ্যালোভেরার রস সরাসরি ত্বকে প্রয়োগ করলে ব্রন এবং ব্রনের দাগ থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। ত্বকের পাশাপাশি অ্যালোভেরা চুলের জন্যও বেশ ভালো একটি উপকারী উপাদান। প্রতি দিন মাত্র ১ গ্লাস অ্যালোভেরার শরবত চুলের নানা সমস্যা থেকে রেহাই দেবে। চুল পড়া, চুলের আগা ফাটা এবং চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যার সমাধান করে অ্যালোভেরা। এ ছাড়াও অ্যালোভেরার রস সরাসরি তেলের সাথে মিশিয়ে চুলে লাগাতে পারেন। অ্যালোভেরার রস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। প্রতি দিন ১ গ্লাস অ্যালোভেরার শরবত দেহের সাদা রক্তকণিকা বাড়ায় যা রোগ প্রতিরোধে বিশেষভাবে কার্যকর। অ্যালোভেরার রস রক্তের সাথে মিশে রক্তে অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। এতে করে আমাদের দেহের শিরা উপশিরায় অক্সিজেন সম্বলিত রক্তের সরবরাহ বেড়ে যায় এবং তা আমাদের হৃদপিণ্ডের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। অনেকেই হজমের নানা সমস্যায় ভুগে থাকেন। তাদের জন্য অ্যালোভেরার শরবত মহৌষধ হিসেবে কাজ করে থাকে। অ্যালোভেরার একটি বিশেষ গুণ হল এটি কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ডায়েরিয়াজনিত সমস্যার সমাধান করতে পারে। অ্যালোভেরা শুধুমাত্র হজম শক্তিই উন্নত করে না, এর পাশাপাশি পেটের নানা সমস্যার জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াও ধ্বংস করতে সহায়তা করে। তথ্য সূত্র : http://www.shobdoneer.com, http://shobujbanglablog.net, ও অন্যান্য ওয়েবসাইট, চিরায়ত বনৌষধ : শিবকালী ভট্টাচার্য