তুলসীর উপকারিতা এবং ব্যাবহার কিভাবে করবেন? তুলসীর মিরাক্যাল সম্পর্কে এবং এর উপকারিতা ঔশুধি গুন সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। কিন্তু তুলসীর ব্যাবহারেও আছে কিছু নিয়ম। কিভাবে তুলসী খাওয়া অভ্যেস করবেন চলুন দেখে নেয়া যাক। ব্রণের সমস্যায় দারুণ উপকারী তুলসী তুলসী পাতা রক্তের নানারকমের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে তা বিশুদ্ধ রাখতে সাহায্য করে কারণ এতে রয়েছে Anti-Bacterial ও Anti-Fungal উপাদান। কিভাবে ব্যবহার করবেন? তুলসী পাতার একটি পেস্ট বানিয়ে তা চন্দন বা গোলাপ জলের সাথে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিটের জন্যে রেখে দিন। তারপর সেটি জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া তুলসী পাতা দিয়ে চা তৈরী করে পান করলেও সমানভাবে ব্রণর বিরুদ্ধে কার্যকরী ফলাফল পাওয়া যায়. এই প্রক্রিয়ার দ্বারা Blackheads, ব্রণর কালো ছোপ, দাগ এবং ব্রণ সবকিছু কমিয়ে আনা যায়। এই সত্যটি নানারকমের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে। ত্বকের সংক্রমণে দারুণ কাজ করে তুলসী তুলসীতে রয়েছে Anti Biotic উপাদান যা ত্বকের নানারকমের সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে। এর সাহায্যে ত্বকে বিবাই কোলাই-এর মত ব্যাকটিরিয়া বা Arthritis সহজে মিটে যায়। কিভাবে ব্যবহার করবেন? ২৫০ গ্রাম তুলসী পাতা জলে ভালো করে ফুটিয়ে তা তিল তেলের সাথে মিশিয়ে মুখে লাগালে তা ত্বকের সংক্রমণের বিরুদ্ধে দারুণ কার্যকরী ভূমিকা নেয়। এছাড়া আরেকটি উপায় হল, তুলসী পাতা বেটে কয়েক ফোটা লেবুর রসের সাথে মিশিয়ে সেটি ত্বকে লাগানো। এর ফলেও সংক্রমণ অনায়াসে কমে আসে। তুলসী পাতায় থাকা Anti-Microbial ও Anti-Fungal উপাদান ত্বকের সংক্রমণের বিরুদ্ধে কার্যকরী ভূমিকা নিয়ে লড়াই করে। এর ফলে নানারকমের আয়ুর্বেদিক ওষুধ তুলসী পাতা দিয়ে তৈরী হয়ে থাকে। এক্সিমা এবং শ্বেতী সারাতে অব্যর্থ তুলসী প্রতিদিন তুলসী পাতা খেলে শ্বেতী রোগের মত সমস্যা অনায়াসে দূরে চলে যায়। শুধু তাই নয়, এর দ্বারা এক্সিমার মত রোগও বেশ ভালোভাবে সেরে ওঠে। নানা রকমের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে তুলসী পাতায় থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট এক্সিমার বিরুদ্ধে অসাধারণ ভাবে লড়াই করে। তবে ত্বকে তুলসী পাতা লাগানোর আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না। চুলের সমস্যায় তুলসী স্বাস্থ্য ও ত্বক ছাড়াও তুলসী পাতার উপকারিতা চুলের ক্ষেত্রেও দারুণভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তুলসী পাতা চুলের গোড়া মজবুত করে ও চুলের নানারকমের সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করে। দেখে নেওয়া যাক কিভাবেঃ- চুল পড়া বন্ধ করে চুলের গোড়া মজবুত করে চুল পড়ার মত সমস্যা দূর করে তুলসী পাতা। এর প্রধান কারণ হল তুলসী পাতায় থাকা এন্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান। কিভাবে ব্যবহার করবেন? কয়েক ফোটা নারকেল তেলে খানিকটা তুলসী পাতা বাটা মিশিয়ে মাথার স্ক্যাল্পে লাগান। ৩০ মিনিট রেখে চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এর ফলে চুলের গোড়া মজবুত হবে, স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে ও চুল পড়ার সমস্যা ধীরে ধীরে চলে যাবে। তুলসী পাতার এই গুণাগুণ থাকার ফলে এটিকে হারবাল ও আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে চুলের ওযুধ বলে গণ্য করা হয়। খুশকি দূর করে তুলসী পাতায় রয়েছে এমন কিছু বিশেষ উপাদান যা চুলের চার রকমের সমস্যার বিরুদ্ধে কাজ করে যার ফলে চুলে খুশকি হতে পারে। চুলে খুশকির সমস্যা হলে অবশ্যই তুলসী পাতা ব্যবহার করুন। কিভাবে ব্যবহার করবেন? আপনার প্রতিদিনের চুলের তেলের সাথে একটু তুলসী পাতার রস মিশিয়ে সেটি ভালো করে মাথার স্ক্যাল্পে লাগান। এর ফলে স্ক্যাল্পের শুষ্কতা দূর হয় ও খুশকি হওয়া রোধ করা যায়। এমনকি, মাথায় চুলকুনি হলেও তা কমে যায়।চুলের খুশকি দূর করে, চুলকে নতুন করে উজ্জ্বলতা প্রদান করে ও রুক্ষভাব দূর করতে সাহায্য করে তুলসী পাতা। পাকা চুলের সমস্যায় তুলসী পাকা চুলের সমস্যা দূর করতেও দারুণ উপযোগী এই তুলসী পাতা। কিভাবে ব্যবহার করবেন? কয়েকটি তুলসী পাতা এক পাত্র জলে ভিজিয়ে সারারাত রেখে দিন। তারপর সেটি বেটে তার মধ্যে আমলকির গুঁড়ো মিশিয়ে সেটি চুলে ভালো করে গোড়া থেকে লাগিয়ে দিন। সকালে উঠে ভালো করে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন.এই প্রক্রিয়াটির দ্বারা খুব সহজেই পাকা চুলের সমস্যা দূর হবে। তাই নানা রকমের চুলের তেল ও শ্যাম্পুতে তুলসী পাতা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিভাবে তুলসী পাতা খাওয়া অভ্যেস করবেন? তুলসী পাতা ব্যবহার করা খুব সহজ এবং আপনি নানা রকম ভাবে এই তুলসী পাতা ব্যবহার করতে পারেন। আসুন দেখে নেওয়া যাক কিভাবে! প্রতিদিন খালি পেটে কয়েকটি তুলসী পাতা চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যেস করতে পারেন। এতে নানারকমের অসুস্থতা দূর করা যায়। তুলসী পাতা দিয়ে দারুণ এক রকমের চা তৈরী করা যায়। এক পাত্র জলে তুলসী পাতা, আদা ও চা পাতা ফুটিয়ে অল্প মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে পারেন। আপনার পছন্দের যে কোনো খাদ্যে তুলসী পাতা কুচি কুচি করে কেটে মিশিয়ে নিতে পাবেন। তুলসী পাতা রোদে শুকিয়ে প্রতিদিন অল্প অল্প করে খেতে পারেন। আপনি বাড়িতে খুব সহজেই তুলসী গাছ লাগাতে পারেন। তুলসী গাছের যত্ন নেওয়া খুবই সহজ তুলসী পাতা ব্যবহার করার আগে দেখে নেবেন যেন সেই পাতায় কালো দাগ ছোপ না থাকে। আপনি অনায়াসে তুলসী পাতা চার দিন ধরে ফ্রিজে রেখে টাটকা অবস্থায় ব্যবহার করতে পারেন। তুলসী পাতার ক্ষতিকারক দিক তুলসী পাতার কিছু ক্ষতিকারক দিক ও কিন্তু রয়েছে। তুলসী পাতা যতই উপকারী হোক না কেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো। দেখে নিন ঠিক কোন কোন ক্ষেত্রে তুলসী পাতা খাওয়া উচিত নয়। গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যপান করানোর সময়ঃ গর্ভাবস্থার সময় বা মা হওয়ার পর স্তন্যপান করানোর সময় সামান্য তুলসী পাতা খেলে কোনো ক্ষতি হয় না, কিন্তু অতিরিক্ত তুলসী পাতা খেলে নানা রকমের জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই এই সময় তুলসী পাতা না খাওয়াই ভালো। এছাড়া অতিরিক্ত তুলসী পাতা মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট পরিমাণে এটি ব্যবহার করা ভালো। রক্তপাতের সমস্যাঃ অতিরিক্ত তুলসী পাতা খেলে শরীরে রক্তের প্রবাহ অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার ফলে শরীরের স্বাভাবিক রক্ত জমাট হওয়ার প্রবণতা নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে অতিরিক্ত রক্তপাতের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে কোনোরকম Surgery বা কাটা ছেঁড়া হলে ওই সময় তুলসী পাতা এড়িয়ে চলুন। এছাড়া সার্জারির দু সপ্তাহ আগে থেকেও তুলসী পাতা খাওয়া বন্ধ করা উচিত। নিম্ন রক্তচাপঃ তুলসী পাতায় অতিরিক্ত পটাসিয়াম থাকার ফলে রক্তচাপ কমে যেতে পারে। তাই আপনার যদি নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে তুলসী পাতা না খাওয়াই ভালো। লেখকঃ রাজীব দত্ত (প্রাবন্ধিক) তথ্য সুত্রঃ আয়ুষ মন্ত্রণালয় (ভারত সরকার), সরকারি আয়ুর্বেদ হাসপাতাল (ত্রিপুরা সরকার), হর্টিকালচার ডিপার্টমেন্ট ত্রিপুরা সরকার এবং বিভিন্ন আয়ুর্বেদ এক্সপার্ট এবং চিকিৎসকদের মতামত এবং ইন্টারভিউ থেকে। ছবি সৌজন্যে : The Hindu